Home » নিউজ » দৃঢ় এক নাম মুকতি মজুমদার

দৃঢ় এক নাম মুকতি মজুমদার

মিডিয়া খবর :- শিক্ষাগুরু মুকতি মজুমদারের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষ্যে আমি তোমাদেরই লোক শিরোনামে এক স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়  শনিবার, ১০ নভেম্বর ২০১৮ সন্ধ্যা ৬টায়, সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্র, ১/ই/১ পরিবাগ, মাজার গলি, শাহবাগে।

অনুষ্ঠানের মুখবন্ধ ও সঞ্চালনা করেন দখিনদুয়ারের আহবায়ক-  আবদুস সবুর খান চৌধুরী

মুকতি মজুমদারের প্রতিকৃতিতে পুষ্প অর্পণ, মোমবাতি প্রজ্বলন  এবং আগুনের পরশমনি ছোঁয়াও প্রাণে এবং  আকাশ জুড়ে শুনিনু ওই বাজে সমবেত সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করেন মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব রাহুল রাহা, অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, যশোর বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব রুদ্র, জ্যোতি চট্টপাধ্যায় ও ডালিয়া রহমান।

সঙ্গীত পরিবেশন করেন কৃষ্ণ সেন, অদিতি সেন, বর্ষা রাহা, আনন্দময়ী মজুমদার, দীপ্র, সাগরিকা জামালী, জান্নাতুল ফেরদৌস লাকী, অশোক মন্ডল, নিহার হাওলাদার, কাজী শিলা, বাবু সরকার ও মুসা কলিম প্রমুখ। আবৃত্তি করেন সাজেদুর রহমান সজল, আতিকুজ্জামান মির্জা ও মঞ্জুরুল আলম পান্না।

মুক্তি মজুমদার খুলনার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে রবীন্দ্রনাথের মানসকন্যা বলে পরিচিত। রবীন্দ্রদর্শন ধারণ করা যে গুটিকয়েক মানুষ বাংলাদেশে জাজ্বল্যমান তাদের মধ্যে অন্যতম মুক্তি মজুমদার। প্রচারবিমুখ, নিভৃতচারী থেকেও সকলের কাছের প্রাণের মানুষ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। রবীন্দ্রনাথের বানিজ্যিক ব্যাবহারের বিপরীতে মননশীল প্রয়োগের জন্য আজীবন কাজ করেছেন। রবীন্দ্রনাথের কবিতার মত ঋজু অথচ বিশাল, সঙ্গীতের মত সরল অথচ প্রগাঢ়, ছোটগল্পের মতো দুরন্ত অথচ ঝর্ণার মতন সে ই মুকতি মজুমদার।

অধ্যাপক মুকতি মজুমদার

অধ্যাপক মুক্তি মজুমদার ১৯৩৮ সালের ২৮ নভেম্বর খুলনার মহেশ্বরপাশায় জন্মগ্রহন করেন। তিনি ১৯৫৯ সালে ম্যাট্রিক পাশ করেন এবং ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন শাস্ত্রে এম এ করেন। তাঁর পিতা সুবোধচন্দ্র মজুমদার ছিলেন একজন বিশিষ্ট আইনবিদ ও শিক্ষাবিদ। সুবোধচন্দ্র একাধারে বেহালা, সেতার, বীণা, পাখোয়াজ, তবলা, হারমোনিয়াম, বাঁশি, এস্রাজ জানতেন। কলকাতার সঙ্গীত একাডেমিতে গিয়ে তালিম নিয়েছিলেন। সেইসব আবার শিখেছিলেন তাঁর ছেলেমেয়েরা। যোগ্যপিতার যোগ্যকন্যা হয়ে বেড়ে উঠেছিলেন দর্শনের অধ্যাপক মুকতি মজুমদার।

জীবন ও জগৎ সম্পর্কে তার গভীর জ্ঞান, মুক্তচিন্তুা, উদার ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রতিবাদী ব্যক্তিত্ব সূধী মহলে বিশেষভাবে পরিচিত। অন্যায়ের সঙ্গে তিনি ছিলেন আপোষহীন, দৃঢ় ও নির্ভিক। খুলনার মূলধারা সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসাম্প্রদায়িক, মুক্তচিন্তার আন্দোলনে পুরোধা ছিলেন তিনি।

সাম্রাজ্যবাদী শোষণের বিরুদ্ধে যে সুকঠিন সংগ্রাম, তাতে উজ্জীবিত করেছেন শত শত তরুণকে। গ্রামের প্রান্ত মানুষগুলোর কাছে অধ্যাপিকা মুকতি মজুমদারের গৃহকোণ আরণ্যক ছিল নিজের আলোর ঠিকানা। জীবনের শেষ দিনগুলোতে আরণ্যকে বৃক্ষ রাজি, ফুল আর পাখীরাই ছিল তার নিকটজন। কি দিয়েছেন-বিলিয়েছেন, কি পেলেন তার প্রতিদান, সে চিন্তার সংকীর্ণতা স্পর্শ করতে পারেনি কখনও। তাই মানুষ গড়ার কারিগর অধ্যাপিকা মুকতি মজুমদার ভিন্ন ও অনন্য।

খুলনার ঐতিহ্যকে হৃদয়ে লালন করে প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঋদ্ধ দখিনদুয়ার শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে মানুষ গড়ার কারিগর অধ্যাপিকা মুকতি মজুমদারকে।

 

 

 

Check Also

mobile set

অবৈধ পথে মোবাইলের প্রবেশ আর নয়

মিডিয়া খবর :-  নকল বা অবৈধ মোবাইল ফোন শনাক্ত করতে একটি শক্তিশালী আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল …

সভাপতি সাইফুল, সাধারণ সম্পাদক ফরিদা

মিডিয়া খবর :-  জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আজ মঙ্গলবার দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্টিত হল। জাতীয় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *