Home » মঞ্চ » শিল্পকলায় ভঙ্গবঙ্গ, সেই রাতে পূর্ণিমা ছিল ও নদ্দিউ নতিম
ভঙ্গবঙ্গ

শিল্পকলায় ভঙ্গবঙ্গ, সেই রাতে পূর্ণিমা ছিল ও নদ্দিউ নতিম

মিডিয়া খবর:-

নাট্যশালার মূল থিয়েটার হল:

শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালার মূল থিয়েটার হলে আজ সন্ধ্যা ৭টায় উপস্থাপিত হবে আরণ্যকের নাটক  ভঙ্গবঙ্গ। 

প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ রচিত নাটকটির নির্দেশনায় আছেন ফয়েজ জহির। নাটকটিতে অভিনয় করেছেন মামুনুর রশীদ, তমালিকা কর্মকার, আরিফ হুসাইন, আমানুল হক, রুবলী চৌধুরী, সাজ্জাদ সাজু, ফিরোজ মামুন, কামরুল হাসান, সাইদ সুমন, হাসিম মাসুদ, মনির জামান, কাজী আল আমিন, পার্থ চ্যাটার্জি, লায়লা বিলকিস প্রমুখ।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের ফলে বাংলাভাষাভাসীদের ভূমি দুই ভাগে গাগ হয়ে যায়। রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন এ তো বাংলারই মাটি। আর এই মাটিতে বসবাসরত মানুষগুলও জড়িয়ে যায় একে অপরের সাথে।
‘ভঙ্গবঙ্গ’ নাটকটির শুরু হয় দুটি দেশের সীমান্ত অঞ্চল থেকে। বেনাপোল ও হরিদাসপুর। এপারের চোরাকারবারি রাজার সঙ্গে ওপারের যৌনকর্মী মালিনীর প্রেম-বিরহ, গলাধাক্কা খেয়ে মাতাল বিশুর জীবনবোধ, কাস্টমস-ইমিগ্রেশনের বাণিজ্য-সংকটসহ বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা। এত সব ঘটনার মধ্যে হঠাৎ উদ্ভট একজন মানুষের আবির্ভাব নিত্যদিনের আবহ ঘোলাটে করে তোলে। এই চরিত্রটির আগমনে নাটক নতুনদিকে মোড় নেয়।

নাটকের একপর্যায়ে দেখা যায়, ‘উদ্ভট’ চরিত্রটি শিলাইদহ পতিসরে যাবে, পদ্মায় বোট নিয়ে ঘুরে বেড়াবে। সে বুঝতে চায় না ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগ, বাংলা ভাষাভাষীদের ভূমির বিভাজন। যেখানে পাখি উড়ে যায়, বাতাস ও নদীর জল অবলীলায় প্রবহমান, সেখানে যাওয়া মানুষের অগম্য কেন হবে? এমনই এক প্রশ্ন জাগিয়ে তোলে এই উদ্ভট মানুষটি।

এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হল:

আজ শিল্পকলা একাডেমীর এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে সন্ধ্যা ৭টায় প্রদর্শিত হবে আরশিনগর থিয়েটারের নাটক সেই রাতে পূর্ণিমা ছিল। কথাসাহিত্যিক শহীদুল জহিরের উপন্যাস অবলম্বনে নাটকটিতে নির্দেশনা দিয়েছেন রেজা আরিফ।

নাটকে মফিজুদ্দিন কামলার ছেলে হয়েও নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে চন্দ্রভানকে বিয়ে করে এবং ক্রমান্বয়ে বিত্তশালী হয়। অথচ সে নিজ সন্তান মোল্লা নাসিরউদ্দিনের সঙ্গে জোলার মেয়ে দুলালির প্রণয় মেনে নিতে পারে না, তখনই আসলে তার জীবনের পরিণতি নির্ধারিত হয়ে যায়।
এর ফাঁকেও ঘটতে থাকে নানা ঘটনা। নাট্যচরিত্রদের মধ্যে নয়নতারা নামের এক জলবেশ্যা, গ্রামের জোলার কন্যা দুলালি, মফিজুদ্দিনের পুত্র মোল্লা নাসিরউদ্দিন কিংবা স্ত্রী চন্দ্রভানের মতো চেনা-জানা চরিত্রগুলো গল্পের কাঠামোর ভেতর যে রকম অবিশ্বাস্য অচেনা আদল লাভ করে, দর্শককে তা মোহিত করে এবং একই সাথে বিভ্রান্ত করে। চেনা গল্প, চেনা ঘটনা ও চেনা চরিত্রগুলোর হাত ধরে ‘সে রাতে পূর্ণিমা ছিল’র দর্শক এক অচেনা জাদুময় জগতে পরিভ্রমণ করে। সেই সঙ্গে ১১১ বছর বেঁচে থাকার কথা বলে বেড়ানো মফিজুদ্দিনের ৮১ বৎসর বয়সে সপরিবারে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া ইত্যকার নানাবিধ রহস্যাবৃত ঘটনার ভেতার দিয়ে নাটকীয় কৌশলেই সমাপ্ত হয় নাট্যকাহিনি।

নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইভান, সোহেল, বনি, রায়হান, শুভ, বাপ্পা, সফুকা, রুদ্র মিন্টু, ইউসুস, রমিত, পার্থ, ডেইজি, জুম্মন, মৃন্ময়ী, আতিক, ফরহাদ, নিতাই, সিনথি প্রমুখ। মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন কবীর, লিমন ও সামিউল হক। পোশাক পরিকল্পনায় ডেইজি ও তানিয়া এবং কোরিওগ্রাফি করেন আজামা শানুহু।

স্টুডিও থিয়েটার হল:

ম্যাড থেটারের ‘নদ্দিউ নতিম’ মঞ্চস্থ হবে শিল্পকলা একাডেমীর স্টুডিও থিয়েটার হলে সন্ধ্যা ৭টায়।

‘নদ্দিউ নতিম’ হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের নাট্যরূপ। নির্দেশক আসাদুল ইসলাম। নাটকে একজন কাল্পনিক উজবেক কবি ও একজন মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুর মনোজাগতিক বিশ্লেষণ দেওয়া হয়েছে। নাটকে বেশিরভাগ সময় তারা নিজে নিজে কথা বলে। নিজের সঙ্গে নিজে কথা বলা, এটা জটিল একটা ক্রিয়া। নদ্দিউ নতিমে দীর্ঘ দীর্ঘ স্বগতোক্তি, বর্ণনা, বিরামহীন, বর্ণহীন, বিষাদ। 

Check Also

দুই বাংলার থিয়েটার ক্যাম্প

মিডিয়া খবর :- শুরু হল শব্দ নাট্যচর্চা কেন্দ্র’র উদ্যোগে  দুই বাংলার প্রথম আন্তর্জাতিক থিয়েটার ক্যাম্প। শব্দ নাট্যচর্চা কেন্দ্র’র …

শিল্পকলায় উৎসবের শেষদিনে সুরগাঁও

মিডিয়া খবর :- আজ রবিবার গঙ্গা যমুনা নাট্য ও সাংস্কৃতিক উৎসরে শেষ দিনে মঞ্চায়িত হবে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *