Home » নিবন্ধ » যশোর মুক্ত দিবস

যশোর মুক্ত দিবস

মিডিয়া খবরঃ-         সাজেদুর রহমানঃ-

৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের এই দিনেই যশোর জেলা পাক হানাদার বাহিনী মুক্ত হয়েছিল।

৩রা মার্চ ৭১ যশোর কালেক্টরেটের সামনে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে যশোরবাসী শপথ নেয় স্বাধীনতা যুদ্ধের। শহরের রাজপথে বের হয় জঙ্গি মিছিল। এই মিছিলে গুলি চললে শহীদ হন চারুবালা ধর। স্বাধীনতা সংগ্রামে তিনিই যশোরের প্রথম শহীদ।

  1. ১৯৭১এর এদিন বিকেলের আগেই মুক্তিসেনাদের সহযোগিতায় ভারতীয় মিত্রবাহিনী পৌছে যায় যশোর ক্যান্টনমেন্টে। কিন্তু যা দেখা যায় তা দেখে তো চোখ চড়ক গাছ! শক্তিশালী যশোর ক্যান্টনমেন্টে তখন শূন্য। পাকসেনারা তার আগেই ক্যান্টনমেন্টে ছেড়েছে চলে গেছে। বাংলার দামাল ছেলেরা ভিতরে ঢুকে দেখত পায় খাবার টেবিলে প্লেটে খাবার। পড়ে আছে ভাত তরকারি। ভয়ে জীবন বাঁচাতে খাবার ফেলেই স্থান ত্যাগ করে নিরাপদ সন্ধানে পাকসেনারা পালিয়েছে। পরে জানা যায় তারা খুলনার দিকে অগ্রসর হয়েছে।

তবে এর আরো আগে ২০শে নভেম্বর মুক্তিবাহিনী যশোর সেনানিবাস দখলে অভিযান শুরু করে। পাক বাহিনীর পশ্চিমাঞ্চালের শক্তিশালি ঘাঁটি চৌগাছা ঘিরে ফেলে মুক্তিযোদ্ধারা। ২২ শে নভেম্বর রাতে পতন হয় যশোরের চৌগাছার সেনা ক্যাম্প। মুক্ত হয় চৌগাছা।1424383_805030402872565_2916486356362714442_n

সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে এরপর থেকেই যশোরে সংগঠিত হতে থাকে প্রতিরোধ। সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়া হতে থাকে ছাত্র, যুবক ও মহিলাদের।

অন্যদিকে ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি বাহিনী তৎকালীন জাতীয় সংসদ সদস্য মশিউর রহমানকে তাঁর বাসভবন থেকে ধরে যশোর সেনানিবাসে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে খুন করে।

২৯ শে মার্চ পাক হানাদার বাহিনী যশোর শহর ছেড়ে সেনানিবাসে চলে যায়।

আগে ৩০শে মার্চ যশোর সেনানিবাসের বাঙালি সৈনিকেরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে ক্যাপ্টেন হাফিজের নেতৃত্বে। পাকবাহিনীর সাথে প্রচন্ড যুদ্ধে লেফটেন্যান্ট আনোয়ারসহ অনেকেই এখানে শহীদ হন।

পরের দিন ৩১শে মার্চ নড়াইল থেকে হাজার হাজার লোকের এক বিশাল মিছিল আসে। শহরবাসীর সাহায্যে সশস্ত্র মিছিলটি হামলা চালায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে। মুক্তি পায় সব রাজবন্দী।

যশোরে জুলাই মাস থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধের গতিধারা পাল্টে যায়। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা যশোর শহর ও অন্যান্য এলাকায় পাকবাহিনীর অবস্থানগুলোতে প্রচন্ড আক্রমন চালাতে থাকে।

যশোর মুক্তিযুদ্ধের ৮নং সেক্টর এর অন্তর্ভুক্ত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মঞ্জুর।

যশোরে পাক বাহিনীর মোতায়েন ছিল ১০৭নং ব্রিগেড। এর কমান্ডার ছিলেন বিগ্রেডিয়ার হায়াত খান। যশোর সেনানিবাস থেকে শত্রুবাহিনী ৬টি জেলা নিয়ন্ত্রণ করত।

পাক বাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার হায়াত খান প্রাণ ভয়ে তার অফিস স্থানান্তর করেন খুলনায়। প্রতিরোধ যুদ্ধের শেষ অভিযান শুরু হয় ৫ ও ৬ ডিসেম্বর। যুদ্ধে টিকতে না পেরে পাক বাহিনী পালিয়ে যায় খুলনার দিকে।

৬ ডিসেম্বর দুপুরের পর থেকেই মুক্তি বাহিনী যশোর শহরে প্রবেশ করে। যুদ্ধবিধ্বস্ত মুক্ত শহরে ওড়ে স্বাধীন দেশের পতাকা।

পাক হানাদার ও তাদের সহযোগীদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হন আইনজীবী মশিউর রহমান সুশীল কুমার রায়, সৈয়দ আমির আলী ও আব্দুর রসিদ খান, বাঘারপাড়া থানা আওয়ামী লীগ নেতা ডা. আব্দুল কাদের, আবু তালেব, শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ সুলতান অধ্যাপক নবীন চন্দ্র, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নারায়ণ সাহা, সমাজ সেবী সুধির ঘোষ, নাট্য অভিনেতা অমল সোম, চিকিৎসক ওবায়দুল হক, মাহফুজ আসাদ, তোজো, মানিক, শান্তি, নজরুলসহ অসংখ্য বাঙালী সন্তান।

সেই সাথে ৬ই ডিসেম্বর মুক্ত হয় ঝিনাইদহ, মেহেরপুর,ফেনী পাক হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয়েছিলো।

*** তথ্যঃ মুক্তিযুদ্ধে যশোর, উইকিপিডিয়া, যশোর ইনফো,বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস।

Check Also

উজ্জ্বলতম গৌরবময় ইতিহাসের পাতায় গরুর গাড়ি

মিডিয়া খবরঃ-    – : সাজেদুর রহমান :-  ইট-পাথরের এই যান্ত্রিক নগরের মন যখন ক্লান্ত হয়ে …

৫ই ডিসেম্বর ১৯৭১

 মিডিয়া খবরঃ-        সাজেদুর রহমানঃ- ৫ই ডিসেম্বর ১৯৭১।   সকাল ৯ টায় মিত্রবাহিনীর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *