Home » নিউজ » মৃত্যু পথযাত্রী ময়ূর নদী

মৃত্যু পথযাত্রী ময়ূর নদী

মিডিয়া খবর :- ময়ূর নদী মৃত্যু পথযাত্রী।  ময়ূর নদীর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বর্তমানে চরমভাবে বাধাগ্রস্ত।

নিঃশেষ হওয়ার পথে খুলনা মহানগরীর গর্ব ময়ূর নদী। অব্যাহত দখল, রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা ও মাত্রাতিরিক্ত দূষণে একসময়ের প্রমত্ত এ নদীর পানি আজ সম্পূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্তমানে নদীর পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ গ্রহণযোগ্য মান-মাত্রার চেয়ে কম থাকায় এ পানি কৃষি-ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। খুলনা মহানগরী ঘেঁষা এ নদীটি অচিরে হারিয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা বিভাগের পরিচালিত গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
 
খুলনা বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর ও সিটি করপোরেশনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, খুলনা মহানগরীর পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ময়ূর নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ২২ কিলোমিটার। এই নদী  একসময়ে এ অঞ্চলের মানুষের সুপেয় পানি ও মাছের অন্যতম আধার ছিল। পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহার হতো এ নদীর পানি; কিন্তু অপরিকল্পিত নগরায়ন ও বর্জ্য অব্যবস্থাপনার শিকার হয়ে এ নদীর পানি দূষিত হয়ে পড়েছে। অপরদিকে অপ্রতিরোধ্য দখলে দিন দিন ময়ূর নদী তার আয়তনও হারাচ্ছে। এই নদীর পানি নিয়ে খুলনার পরিবেশ অধিদপ্তর ২০১১ সালে পরীক্ষা শুরু করে। ওই পরীক্ষায় নদীর পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা কমে আসছে বলে তথ্য মিলেছে, যা জলজ প্রাণির বেঁচে থাকা ও কৃষিকাজে ব্যবহার করার অনুপযোগী। পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা ১৯৯৭ অনুযায়ী, মাছসহ জলজপ্রাণী বেঁচে থাকা ও নদীর পানি কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন সর্বনিম্ন  প্রতি লিটারে ৫ মিলিগ্রাম থাকার কথা; কিন্তু ২০১১ সালের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষাকালে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা ছিল প্রতি লিটারে চার মিলিগ্রাম, যা কমে বর্তমানে গড়ে প্রতি লিটারে দুই মিলিগ্রামে এসে দাঁড়িয়েছে।

ময়ুর নদী বাংলাদেশে অবস্থিত একটি নদী। এটা গঙ্গা অববাহিকার পুরাতন নদীবিশেষ। এটি খুলনা শহরের উত্তর পশ্চিমাংশে গল্লামারী সংলগ্ন অংশে অবস্থিত। এই নদীতে খুলনা শহরের অধিকাংশ পয়োঃনিষ্কাষন ব্যবস্থা যুক্ত। তলানী জমতে জমতে নদীটি এখন মৃত প্রায়, রূপসা নদীর সাথে এখন ময়ূর নদীর কোন সরাসরি সংযোগ নেই। গেটের মাধ্যমে জোয়ার ভাটা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ১৯৭১ সালে পাকবাহিনী এই ময়ূর নদীর তীরে ব্যাপক গণহত্যা চালায়। ময়ূর নদী দখল করে একটি বিনোদন পার্কের স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। খুলনা নগরের গল্লামারীতে নির্মাণাধীন পার্কটির জন্য নদীটির পাঁচটি স্থানে দালান কোঠা ঘর গড়ে তোলা হয়েছে।

দখলদারদের ক্রমাগত দখলে সরু খালে পরিণত হচ্ছে খুলনার ময়ূর নদী। নগরীর পানি নিষ্কাশনের অন্যতম পথটি দখল হওয়ায় তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। 

সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, আলুতলা স্লুইস গেইট’র (যেখানে ময়ূর নদী রূপসা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে) নিকট থেকেই শুরু হয়েছে নদী জবরদখল। তবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনের চক্ মথুরাবাদ মৌজা থেকে রায়ের মহল হামিদ নগর স্লুইস গেইট পর্যন্ত দুই পাশের নদী ব্যাপক ভাবে জবরদখল করে নিয়েছে নদীসন্ত্রাসী ভূমীদস্যুরা। ফলে নদী এখানে সংকির্ণ খালে পরিণত হয়েছে।

 

Check Also

Qamrul Hassan Bhuiyan

মুক্তিযুদ্ধের এনসাইক্লোপিডিয়া কামরুল হাসান ভূঁইয়া চলে গেলেন

মিডিয়া খবর :- কাজী চপল :- চলে গেলেন বাংলার সাহসী সন্তান, মুক্তিযুদ্ধের এনসাইক্লোপিডিয়া কামরুল হাসান ভূঁইয়া। অকুতোভয় …

অটিজম বিষয়ক সাংবাদিকতায় আসাদ রিয়েল ও ফেরদৌস আরেফিন পুরস্কৃত

মিডিয়া খবর :- অটিজমে আক্তান্ত শিশুদের চিকিৎসায় স্পিচ থেরাপি নিয়ে করা বিশেষ প্রতিবেদনের জন্য সোসাইটি অফ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *