Home » চলচ্চিত্র » ফটোগ্রাফি থেকে চলচ্চিত্রে জাহিদুর রহমান বিপ্লব
omar faruker ma

ফটোগ্রাফি থেকে চলচ্চিত্রে জাহিদুর রহমান বিপ্লব

মিডিয়া খবর :- Image may contain: 1 person, smiling সরকারি অনুদানের জন্য মনোনয়ন পেয়েছে জাহিদুর রহমান বিপ্লবের  স্বল্পদৈর্ঘ্য (৩৫-৪০ মিনিট) চলচ্চিত্র ‘ওমর ফারুকের মা’।

সংগৃহীত কাহিনীটি মুক্তিযুদ্ধের একটি সত্য ঘটনার ছায়া অবলম্বনে মূলভাবনা, গল্প, পরিচালনা, প্রযোজনা, ক্যামেরা পরিচালনা ও সিনেমাটোগ্রাফি সবই জাহিদুর রহমান বিপ্লবের নিজের। চিত্রনাট্য করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত কাহিনীকার ও চিত্রনাট্যকার মাসুম রেজা। গল্পটা মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি ও বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আবর্তিত। প্রধান চরিত্র মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুকের মা। যুদ্ধশেষে ওমর ফারুক আর ফিরে আসেনি কিন্তু মা এখনো বিশ্বাস করে তার সন্তান একদিন ঠিক ফিরে আসবে।

বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য একটি সত্য ঘটনার ছায়া অবলম্বনে ”ওমর ফারুকের মা”। গল্পটা পিরোজপুরের জেলার নেছারাবাদ স্বরূপকাঠি উপজেলার স্বরূপকাঠি নামক স্থানের একজন মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুক আর তার মায়ের।

জাহিদুর রহমান বিপ্লবে ভাবেন যে একথা সত্য আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সার্বিক বাস্তবায়ন এখনো হয়নি।  মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সার্বিক বাস্তবায়ণনর জন্য আমাদের লড়াই অব্যাহত রাখাটা মুক্তিযুদ্ধকে আরো সফলতার দিকে নিয়ে যাবে। মুক্তিযুদ্ধের সুফলটা তখন বাংলাদেশের সব মানুষের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছাবে।

কাহিনীতে আছে – ওমর ফারুক তখন ২১বছরের যুবক, ছিলেন পিরোজপুর সরকারী সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি। ওমর ফারুক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের নির্ভিকযোদ্ধা, স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন শুরু হলে ওমর ফারুক যোগ দেন স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াস গ্রুপে।  

১৯৭১ সালে ২৩ মার্চ পিরোজপুরের টাউন ক্লাব চত্বরে স্বাধীন বাংলার No automatic alt text available.পতাকা উত্তোলন করেন ওমর ফারুক, পুড়িয়ে ফেলেন শহরের যত পাকিস্থানী পতাকা। ঐদিন সন্ধ্যায় অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে পিরোজপুরের ট্রেজারি ভেঙে লুট করেন অস্ত্র। আত্মগোপনে থেকে সুসংগঠিত করতে থাকেন মুক্তিযোদ্ধাদের। যুদ্ধের সময় এক রাতে মাকে কথা দিয়ে গিয়েছিল রাতে ফিরে মায়ের হাতে ভাত খাবে। ওমর ফারুকের আর ফেরা হয়নি। 

সেই রাতে সে পাক বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে। ধরা পড়ার সময় তার কাছে স্বাধীন বাংলাদেশের ৭টি পতাকা পায় পাক সেনারা। পাক হানাদার বাহিনীর হাতে নাটকীয় মৃত্যু হয় তার; একটি পতাকা মাথায় হাতুড়ি পেটা করে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় তার, শহীদ হন ওমর ফারুক, ভাসিয়ে দেয়া হয় তার লাশ কীর্তনখোলা নদীতে।

৪৬ বছর পেরিয়ে গেছে, পার হয়নি ওমর ফারুকের মায়ের অপেক্ষা ! মা আজও ছেলের অপেক্ষায় তিনবেলা হাড়িতে ভাত বসান, রাত্রে সদর দরজা খোলা রাখেন ছেলের অপেক্ষায়,  ছেলে আসবে সেই বিশ্বাসে !

ওমর ফারুকের সাথে নদী নামের একটি মেয়ের প্রণয় ছিল কলেজে পড়ার সমযে,  যে ওমর ফারুকের মায়ের সাথে তার সারাজীবন উৎসর্গ করে দিয়েছে ওমর ফারুকের স্ত্রীর আসনে সেই শহীদ মুক্তিযোদ্ধার অনেক স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে চলছে নদী ! নদী জানে ওমর ফারুক আর ফিরে আসবে না আর তাই সে ওমর ফারুকের স্বপ্নগুলোকে বাস্তবায়ন করে চলছে শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, নারী অধিকার সহ নানান সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে !

জাহিদুর রহমান বিপ্লব নেহাত শখের বশে ২০০২ সালে বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক ইনস্টিটিউট থেকে একমাসের একটি শর্ট কোর্স বেসিক ফটোগ্রাফির উপর।  ২০০৩ সালে বিয়ে পর জীবিকার প্রয়োজনেই প্রফেশনাল  ফোটোগ্রাফি দিকে যাত্রা শুরু। স্বাধীনচেতা এই আলোকচিত্রী প্রথাগত লেখাপড়া এমবিএ ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি তার কর্মজীবনকে সমৃদ্ধ করেছেন আলোকচিত্রের ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যমগুলোতে ।

ফটোগ্রাফির উপর অনেক বেশি আগ্রহ, ভালোবাসা ও ভালোলাগা থেকে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হয় আলোকচিত্রের ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যমগুলো। তারই ধারাবাহিকতায় ২০০৪-২০০৫ বাংলাদেশের স্বনামধন্য ও প্রখ্যাত আলোকচিত্রী ও শিক্ষক রফিকুল ইসলামের  ফোটোগ্রাফি ইনস্টিটিউট প্রিজম থেকে ফটোগ্রাফির উপর করেন একবছরের ডিপ্লোমা।

তারপর থেকে দেশে বিদেশে  জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোকচিত্রের উপর সেমিনার ও ওয়ার্কশপের মাধ্যমে পেশাদারিত্বের জায়গায় নিজেকে যোগ্য আলোকচিত্রী হিসাবে প্রতিষ্টিত করেছেন। পেয়েছেন সফল আলোকচিত্রী হিসাবে স্বীকৃতি। জাহিদুর রহমান বিপ্লব তার দীর্ঘ ১৫ বছরের ফোটোগ্রাফি ক্যারিয়ারে অর্জন করেছেন আলোকচিত্র ঘরনার বিশ্বের প্রেস্টিজিয়াস কিছু মেম্বারশিপ; উল্ল্যেখযোগ্য হলো : ফটোগ্রাফিক সোসাইটি অব আমেরিকা (পি এস এ), অস্ট্রেলিয়ান ফটোগ্রাফিক সোসাইটি (এ পি এস),  : রয়েল ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, ইংল্যান্ড (আর পি এস) প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার এসোসিয়েশন অফ আমেরিকা ( পি পি এ ),  ফটোগ্রাফিক সোসাইটি  Image may contain: 3 people, people sitting and childঅফ নিউজিল্যান্ড ( পি এস এন জেড) .

জাহিদুর রহমান বিপ্লব আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় বেশকিছু সংখক পুরস্কার অর্জন করেছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন ও শিল্পকলার যৌথ উদ্দ্যোগে অনুষ্ঠিত আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় ২০০৮ ও ২০১০ সালে  জাতীয়ভাবে অর্জন করেছেন দুই দুইবার  বেস্ট ফটোগ্রাফার অ্যাওয়ার্ড। এছাড়াও তিনি ২০১২ সালে  অর্জন করছেন সফল ফটোগ্রাফার পুরস্কার।

২০০৪ সালে ”হৃদয়ে বাংলাদেশ” শিরোনামে একক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে  ২০১২ সাল পর্যন্ত তার  সর্বমোট  প্রদর্শনী সংখ্যা গ্রুপ ও একক  মিলিয়ে  ১৪ টা।

আলোকচিত্রের উপর অদম্য ভালোবাসা আর নিজের উপর আস্থা থেকে তিনি ফটোগ্রাফির মৌলিক একটি বই লিখছেন; নিজেই গড়ে তুলেছেন ফটোগ্রাফি শেখার জন্য একটি স্কুল ক্রিয়েশন ফটোগ্রাফি স্কুল ।

দীর্ঘ ১৫ বছর প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার হিসাবে ছবি তোলার মাধ্যমে  তিনি বাংলাদেশের মৌলিক সৌন্দর্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য , শিল্প সাহিত্য, ভাষা, মুক্তিযুদ্ধ, লাইফস্টাইল ও সর্বোপরি বাংলাদেশকে ধারণ করেন একটি নান্দনিক ফ্রেমে যার বহিঃপ্রকাশ তিনি দেখাতে চান তার নিজের শিল্পকর্ম সৃষ্টির মাধ্যমে, নিজের ছবির মাধ্যমে; ছবির গল্পে।

স্থিরচিত্রের পাশাপাশি ফিল্মমেকিং/চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্ন গত ৭/৮ বছর ধরে মনে প্রাণে লালন করছেন জাহিদুর রহমান বিপ্লব। তিনি মনে করেন দেশকে ভালোবাসা বা দেশের জন্য ভালো কিছু করার জন্য প্রথাগত চেয়ার বা পজিশনের দরকার পড়ে না; দরকার পড়ে নির্ভেজাল মানসিকতা, সততা  ও দেশপ্রেম!”

 

Image may contain: 2 people

 

Check Also

শিক্ষাগুরু মুকতি মজুমদার স্মরণ অনুষ্ঠান আজ

মিডিয়া খবর :- শিক্ষাগুরু মুকতি মজুমদারের স্মরণ অনুষ্ঠান আজ শনিবার সন্ধ্যা ৫.৩০ মিনিটে সংস্কৃতি বিকাশ …

অ্যা ডটারস টেল

ডকু-ড্রামা অ্যা ডটারস টেল

মিডিয়া খবর :- মুক্তি পেতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে নির্মিত ‘অ্যা ডটারস টেল’ চলচ্চিত্র। ছবিটিতে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *