Home » নিউজ » নননপুরের মেলায় একজন কমলাসুন্দরী ও একটি বাঘ আসে

নননপুরের মেলায় একজন কমলাসুন্দরী ও একটি বাঘ আসে

মিডিয়া খবরঃ          – সাজেদুর রহমানঃ-

হাত ঘড়ির কাটা বলছে ২৮ এপ্রিল বিকাল ৪টা বেজে ৫মিনিট। ঢাকার বেইলি রোডের  মহিলা সমিতি মিলনায়তনে প্রদর্শিত হতে চলেছে নাটক ‘নননপুরের মেলায় একজন কমলাসুন্দরী ও একটি বাঘ আসে’। এটি থিয়েটার ৫২’র প্রথম প্রযোজনা। শেষ বেল বেজে ওঠার সাথে সাথে হুমড়ি খেয়ে যেন মঞ্চে এল একদল নাট্যকর্মী। নানা ঢঙে, নাচ, গানে আর কথার সুরে হল শুরু। 

পাহাড়ি ঢালে ঝর্ণার পানিতে ভেসে আসা এক মানব শিশুকে নিয়ে চাকমাদের মনে আনন্দের জোয়ার বইছে। নাম পরিচয়হীন সেই এতটুকু মানব শিশুকে কোলে তুলে জনপদে নিয়ে এসেছিলেন মঙ্গল নামের এক বীর মুক্তিযোদ্ধা। দূরে পানিতে ভেসে যেতে দেখেছেন এক মহিলাকে, হয়তো সেই মা জননী।

এমনই এক গল্পের মধ্য দিয়ে লোকালয়ে যুদ্ধশিশু জাইদুল ইসলামকে কেন্দ্র করে নননপুরের মেলায় একজন কমলা সুন্দরী ও একটি বাঘ আসে গল্পের কাহিনি এগিয়ে যায়।

নাটকের এক মুর্হুতে নজরুল, রাহুল আমীন ও মিজান

নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্র জাইদুল জন্ম নেয় পাকসেনা ক্যাম্পে সৈন্যদের দ্বারা তার মায়ের সম্মানহানির মাধ্যমে। যার ফলশ্রুতিতে দেখা যায় জাইদুলের জন্ম পরিচয়ের জটিলতা। নাটকটিতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানুষের উপর পাকবাহিনী ও এদেশীয় সহযোগীরা যে অত্যাচার খুন, ধর্ষণ, লুটতরাজ চালিয়েছিল তার ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে খুব সহজে। দেখানো হয়েছে এদেশীয় দোসর রাজাকারদের চক্রান্তের ছায়া।

গল্পের একপর্যায়ে জাইদুলের মৃত্যু হলে সে ঈশ্বর কে বলে আমি আবার পৃথিবীতে ফিরতে চাই, তবে মানুষ হয়ে নয়! সুন্দরবনের বাঘ হয়ে। এভাবে নাটকটি এগিয়ে চলে।

বদরুজ্জামান আলমগীর রচিত নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন জয়িতা মহলানবীশ। নাটকটিতে অভিনয় করেছেন- নূরে খোদা মাসুক সিদ্দিক, রবিন বসাক, সুরভী রায়, তাসনুভা তানহা, মো: নজরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, আদিব মজলিশ খান, হুমায়রা শারীকা, মো: আসাদুজ্জামান সরকার রিপন, রাহুল আলম, মো: রাসেল, শ্রাবন ইসলাম, ফয়সাল প্রধান, মারজিয়া জাবীন তন্বী, শৈবাল চৌধুরী, অরিত্র মহলানবীশ, অন্তিক মহলানবীশ, আব্দুল্লাহ আল-রুম্মান। নাটকের সেট ও লাইট ডিজাইন করেছেন পলাশ হেনড্রি সেন। প্রপস ডিজাইন করেছেন পলাশ হেনড্রি সেন ও রবিন বসাক। সংগীত পরিচালনা করেছেন এ.বি.এস.জেম। কণ্ঠ দিয়েছন চেতনা রহমান ভাষা, গোপী দেবনাথ, সুরভী রায়, মো: নজরুল ইসলাম, রতন হক ও জয়িতা মহলানবীশ। গানে সুর দিয়েছেন রতন হক। পাহাড়ী সুর, কীর্তনের সুর ও বিয়ের গীত সংগৃহিত। অকাল প্রয়াত প্রাচ্যনাটের সদস্য রিঙ্কন সিকদারের ‘যাইবার আগে যাও বলে যাও’ গানটিও ব্যবহার করা হয়েছে। সংগীত প্রক্ষেপণ করেছেন আব্দুল্লাহ-আল- রুম্মান। কোরিওগ্রাফার হিসেবে কাজ করেছেন কামরুল হাসান ফেরদৌস, রবিন বসাক, নূরে খোদা মাসুক সিদ্দিক।
পোশাক ডিজাইন করেছেন, আফছান আনোয়ার। প্রচ্ছদ ডিজাইন করেছেন, শাহীনুর রহমান। ভিডিও এবং ফটোগ্রাফি করেছেন, আসিফ কিবরিয়া।নাটকের সমন্বয়ক হিসাবে কাজ করেছেন মো: নজরুল ইসলাম।

‘থিয়েটার ৫২’ এর ১ম প্রযোজিত নাটক এটি। বাংলার মিথ ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মিথস্ক্রিয়া ঘটেছে এই নাটকে। নাটকটি একটি যুদ্ধ শিশুকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হলেও এর প্রতিটি চরিত্রই এই বাংলার সাধারণ গ্রামীণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে।

Check Also

স্বাস্থ্যের জন্যে গ্রিন টি

মিডিয়া খবর:- চা পান করাটা আমাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হয়ে দাড়িয়েছে। সে রং চা, …

পদ্মা ব্রিজ

পদ্মাসেতুর ৬০০ মিটার দৃশ্যমান

মিডিয়া খবর :- পদ্মা সেতুর চতুর্থ স্প্যানটি বসানোর কাজ শেষ হয়েছে রবিববার সকাল পৌনে ৭টায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *