Home » Uncategorized » নতুন নাটক আমরা তিনজন
amra tinjon

নতুন নাটক আমরা তিনজন

মিডিয়া খবর :-  ঢাকার মঞ্চে আরো একটা নতুন নাটক যোগ হল। লোক নাট্যদলের নতুন প্রযোজনা বুদ্ধদেব বসুর গল্প অবলম্বনে নাটক ‘আমরা তিনজন’। নাটকটি নির্দেশনা দিচ্ছেন লোক নাট্যদলের অধিকর্তা নাট্যজন জনাব লিয়াকত আলী লাকী। গত ৩০ জানুয়ারি ২০১৯ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি’র জাতীয় নাট্যশালার মূল মঞ্চে নাটকটির প্রথম কারিগরি মঞ্চায়ন হয়ে গেল। আগামী মার্চ মাসে নাটকটি মঞ্চে আসবে। লোক নাট্যদল এর আগেও বুদ্ধদেব বসু’র অন্যতম মৌলিক নাটক ‘তপস্বী ও তরঙ্গিনী’ মঞ্চে এনেছিল এবং প্রায় অর্ধ শতাধিক প্রদর্শনী করেছে।

কাহিনী সংক্ষেপ: বুদ্ধদেব বসু’র এই গল্পটি মূলত রচিত হয়েছে ১৯২৭ সালের ঢাকার পুরানা পল্টনকে ঘিরে। বিকাশ, অসিত এবং হিতাংশু তিনবন্ধু। দিনের বেশিরভাগ সময় তিনবন্ধু একসঙ্গে থাকে, যতটা এবং যতক্ষণ থাকা সম্ভব। তিনবন্ধুর একে অপরের প্রেমে পড়ল আবার তিনবন্ধু একসঙ্গে অন্য একজনের প্রেমে পড়ল। নাম তার অন্তরা, বাড়ির সবাই ডাকে তরু বলে। এই মেয়েটিকে ঘিরেই সারাক্ষণ তিনবন্ধুর নানারকম জল্পনা-কল্পনা, কথাবার্তা, ভাবনা, ইত্যাদি। মূলত বর্তমান সময়ে বসে বিকাশ ১৯২৭ সালের গল্পটা স্মৃতিচারণ করছে। তিনবন্ধু’র কথা বলাবলির এক পর্যায়ে বিকাশ বলে, মেয়েটি দেখতে অনেকটা মোনালিসার মত, তিনবন্ধুর মধ্যে এ নিয়ে অনেক কথা কাটাকাটি হয় কিন্তু সেদিন থেকে একটা সুবিধা হয় এই যে, তাদের কাছে মেয়েটির নাম হয়ে যায় ‘মোনালিসা’।

একদিন কাকতালীয়ভাবে রাস্তায় তাদের সাথে দেখা হয় মোনালিসা ও তার বাবা-মা’র। মোনালিসার বাবা দে-সাহেব তাদেরকে একদিন বাসায় আসতে বলে। এই কথাটির সূত্র ধরেই মেয়েটির বাড়িতে যাবার জন্য তিনবন্ধুর মধ্যে ঠেলাঠেলি ফিসফিসানি হতে থাকে। আকাশে মেঘ টিপটিপ বৃষ্টি মুখর একটি দিনে তারা মোনালিসার বাড়ি যায় কিন্তু মোনালিসার সাথে তেমন কোন কথা বলতে পারে না। এরমধ্যে একদিন জানতে পারে মোনালিসা টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েছে, একথা শুনে তিনবন্ধুর ভীষণ মন খারাপ। এমনসময় মোনালিসার বাবা-মা তাদের সাহায্য প্রার্থনা করে। সারাদিন সারারাত মোনালিসা মূর্ছিতের মতো পড়ে থাকে। ভুল বকে মাঝে মাঝে। আর সারারাত পালা করে কখনো একসঙ্গে দুজন, ক্বচিৎ তিনজনই, বেশিরভাগ একলা একজন মোনালিসার সেবা করে। দিনের পর দিন, রাতের পর রাত, সেই জ্বরে, ঝড়ে, থমথমে অন্ধকারে, ছমছমে ছায়ায় দেড় মাস মোনালিসা শুয়ে ছিল, দেড় মাস সে তাদের ছিল। যে ক’টি কথা তারা শোনে তাই যতœ করে তুলে রাখে মনে। একের কথা অন্য দু’জনকে বলাই চাই। কখনো হঠাৎ একটু অবসর হলে তিনজন বসে সেই কথা ক’টি নিয়ে নাড়াচাড়া করে। যেন তিনজন কৃপণ সারা পৃথিবীকে লুকিয়ে তাদের মনি-মুক্তো ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখে।সারাদিন সারারাত প্রায় একমাস পরিশ্রম করে তারা মেয়েটিকে সুস্থ করে তোলে এবং এই সময়ে মেয়েটির সাথে তাদের একটি আত্মিক সম্পর্ক তৈরী হয়।

তারপর একদিন মোনালিসা ভালো হলো এবং শরীরটা ভালো করে সারাতে ওঁরা চলে গেল রাঁচি। তখন তিনবন্ধুর খুবই মনখারাপ হয় এই জন্য যে, তারা তাদের ঠিকানা রাখেনি। তাদের ভীষন মন খারাপ তারা চিঠি দিতে পারছেনা। তারপর যেদিন ওরা ফিরল, সেদিন স্টেশনে কচি কলাপাতা রঙের শাড়ী পরনে, লাল পাড়, লালচে মুখের রং এর মোনালিসাকে দেখে তিনবন্ধু মুগ্ধ। ট্রেনের মধ্যে মোনালিসা’র সেকি গল্প, দেখতে দেখতে তিনবন্ধু চারজন হয়ে উঠলো।

তারপর হঠাৎ একদিন মোনালিসার মা তাদেরকে ডেকে বলল, একবার তোমরা ওর জন্য অনেক খেটেছ, আরেকবার খাটতে হবে, আগামি ২৯ অঘ্রাণ ওর বিয়ে। খবরটি শুনে তিনবন্ধু হতম্ভব হয়ে গেল। শানাইয়ের সুরে চোখ ভরে গেলো জলে। বিয়ের পর মোনালিসা চলে গেল কলকাতা। মাসিমার কাছ থেকে সব খবরই পেত ওরা তিনজন। মোনালিসা ভালো আছে, হিরেন বাবু গাড়ী কিনেছেন। কলকাতায় কথা বলা সিনেমা দেখাচ্ছে, গরম পড়লেই ওরা দার্জিলিং বেড়াতে যাবে। একদিন হঠাৎ মাসিমা বললো মোনালিসা ঢাকায় আসছে এবং সে অন্তসত্তা। অন্তসত্তা মোনালিসাকে ঢাকায় রেখে কলকাতা ফিরে গেলেন হিরেন বাবু। তিনবন্ধু মোনালিসাকে ঘিরে রইলো সবসময়। ও যাতে ভালো থাকে, কখনো মন খারাপ না করে, সেই চেষ্টাতেই দিন কাটে তিনবন্ধুর। এক অমাবশ্যার রাতে এলো সেই মূহুর্ত। প্রসব বেদনায় ছটফট করছে মোনালিসা, একটা চাপা কান্না, তিনবন্ধুর পিট ফুঁড়ে বুকের মধ্যে ঢুকলো। যেন পৃথিবীর প্রাণে আঘাত দিয়েছে কেউ। তিনবন্ধু রুদ্ধশ্বাসে প্রতীক্ষা করছিলো শীতের রাতে, মাঠের মধ্যে, না খেয়ে, না ঘুমিয়ে, অদৃষ্টের মুখোমুখি। ভোরের প্রথম ছাইরঙা আলোয় ওরা দেখলো দে সাহেবের বেদনার্ত নির্বাক মুখ।

রাশি রাশি ফুল আরো কত কিছু, শুধু সাজাল, শুধু সাজাল। তারপর অন্তিম যাত্রায় নিয়ে যাওয়ার সময় সকলের আগে রইল অসিত আর হিতাংশু। বিকাশ পিছনে হেঁটে চলল একা একা।

দেখতে দেখতে বহুদিন চলে গেল, দে সাহেব চলে গেলেন বদলি হয়ে। অসিত স্কুল পাশ করে চাকরি নিয়ে চলে গেল তিনসুকিয়ায়। কি যেন এক অজানা রোগে মারা গেলো সেখানেই। হিতাংশু এম.এস.সি পাশ করে জার্মানিতে চলে গেলো, আর ফিরে এলো না। ‘আর আমি- আমি এখনো আছি, ঢাকায় নয়, পুরানা পল্টনে নয়, ঊনিশশো সাতাশ কি আটাশে নয়, সেসব আজ মনে হয় স্বপ্নের মতো, কাজের ফাঁকে ফাঁকে একটু স্বপ্ন, ব্যস্ততার ফাঁকে ফাঁকে একটু হাওয়া- সেই মেঘে ঢাকা সকাল, মেঘে ঢাকা দুপুর, সেই বৃষ্টি, সেই রাত্রি, সেই- তুমি! মোনালিসা, আমি ছাড়া আর কে তোমাকে মনে রেখেছে।’

নাটক : আমরা তিনজন, মূল গল্প : বুদ্ধদেব বসু, নির্দেশনা : লিয়াকত আলী লাকী, মঞ্চে:  বিকাশ (প্রবীণ) : লিয়াকত আলী লাকী
বিকাশ (তরুণ) : মাস্উদ সুমন, অসিত : ফজলুল হক, হিতাংশু : আজিজুর রহমান সুজন, অন্তরা : অনন্যা নীশি,
দে সাহেব : স্বদেশ রঞ্জন দাস গুপ্ত, সুমি : সোনিয়া আক্তার, হীরেন বাবু : জিয়া উদ্দিন শিপন, ভৃত্য : শিশির কুমার রায়

নেপথ্যে: মঞ্চ ব্যবস্থাপক : আজিজুর রহমান সুজন, সহকারী : শিশির কুমার রায়, আবু ইসলাম মোহাম্মদ ইতিহাস
সেট : সুজন মাহাবুব, পোষাক : মেহেজাবীন মুমু, যন্ত্র সংগীত : জিনিয়া জাফরিন, নূর-এ-জান্নাত, আবহ সংগীত : ইমামুর রশীদ, সঙ্গীত পরিকল্পনা : লিয়াকত আলী লাকী।

Check Also

dhaka attack

মালয়েশিয়ায় ঢাকা অ্যাটাক

মিডিয়া খবর :- ব্যবসা সফল ছবি ‘ঢাকা অ্যাটাক’ এ বছর মুক্তি পেতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ায়। বৃহস্পতিবার …

শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে স্মৃতিসৌধে জনারণ্য

মিডিয়া খবর :- সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করেছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *