Home » প্রোফাইল » চির বিদায় নিলেন নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম

চির বিদায় নিলেন নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম

মিডিয়া খবর:-

পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে, সকলকে চোখের জলে ভাসিয়ে চির বিদায় নিলেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম (৭৩)। রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে রবিবার ভোর ৬টায়  শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

দীর্ঘদিন ধরেই ফুসফুস ক্যান্সারে ভুগছিলেন গুণী এ নির্মাতা। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে  বিদেশেও পাঠানো হয় । গত মাসের ৭ ডিসেম্বর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বেশ কয়েকদিন চিকিৎসার পর কিছুটা উন্নতি হলে ১৭ ডিসেম্বর তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। ৭ জানুয়ারি শারীরিক অবস্থার আবারও অবনতি হলে তাকে ল্যাব এইড হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। সেখানেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

১৯৪১ সালের ২৩ অক্টোবর বিক্রমপুর শ্রীনগর থানার সমষপুর গ্রামে আজকের চাষী নজরুলের জন্ম। চাষী ছিলেন বাবা-মায়ের জ্যেষ্ঠপুত্র। বাবা মোসলেহ উদ্দিন আহম্মদ, ভারতের বিহারে টাটা আয়রন এন্ড স্টীল কোম্পানীর ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হক চাষীর নাম রেখেছিলেন। বিক্রমপুরে  প্রাইমারি স্কুলেই ক্লাস ওয়ানে তাকে ভর্তি করানো হয়। টুতে ওঠার পর চাষীর বাবা তাকে নিয়ে গেলেন জামশেদপুরে। ওখানে চাষীর বাবারই প্রতিষ্ঠিত বেঙ্গল মুসলিম স্কুলে তিনি ফাইভ পর্যন্ত পড়েন। তারপর ক্লাস সিক্স-সেভেন পড়েন গোলামুড়ি মাধ্যমিক স্কুলে। তারপর আরডি টাটা হাইস্কুলে থেকে চাষী ইলেভেন পাস করেন। এ সময় চাষীর বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। ১৯৫৮ সালে সবাই বিক্রমপুর চলে এলেন।

কিছুদিন পর বাবা মারা যান। পিতার মৃত্যুর পর  বড় ছেলে হিসেবে সব দায়িত্ব তাঁর কাঁধে এসে পড়ে। তিনি এজি অফিসে অফিসের পোস্ট-সর্টার হিসেবে চাকরীতে যোগ দেন। ১৯৬৯ পর্যন্ত চাকরি করেছেন সেখানে। তখন এফডিসি সবেমাত্র গড়ে উঠছে। আউয়াল সাহেব বিখ্যাত পরিচালক ফতেহ্ লোহানীর প্রধান সহকারী তখন। চাষী চাকরির ফাঁকে ফাঁকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন, একই সঙ্গে শুরু করলেন নাটক। আলী মনসুর সাহেবের কৃষ্টি সংঘের সঙ্গে কাজ করেন মঞ্চে অভিনয় করেন। এরমধ্যে পরিচয় হয় পরিচালক অভিনেতা ফতেহ লোহানীর সঙ্গে। ফতেহ লোহানী তখন ‘আছিয়া’ করছিলেন। চাষীকে ছোট্ট একটা রোল করার জন্য ডাকা হয়েছিল। কিন্তু ফতেহ্’র নির্দেশে পরদিন সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব দেয়া হয়। ১৯৬১’র জুন মাসে চাষী সহকারী পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। ১৯৬৩-তে কাজ করেন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও চলচ্চিত্রাকার ওবায়েদ-উল-হকের সহকারী হিসাবে ‘দুইদিগন্ত’ ছবিতে। এলো ১৯৭১। মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিলেন আর সবার মতো। তারপর যুদ্ধশেষে তিনিই প্রথম নির্মাণ করেন মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক চলচ্চিত্র  ‘ওরা ১১ জন’। এই চলচ্চিত্রটি ১৯৭২-এ মুক্তি দেয়ার মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে চাষী নজরুলের আত্মপ্রকাশ করেন। 

প্রথম চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’  তারপর তিনি ‘সংগ্রাম’, ‘ভালো মানুষ’, ‘বাজিমাত’, ‘বেহুলা লক্ষিন্দর’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’, ‘শাস্তি’, ‘সুভা’র মতো অসংখ্য সিনেমা নির্মাণ করেছেন। ১৯৮২ সালে বুলবুল-কবরী-আনোয়ারাকে নিয়ে নির্মাণ করেছিলেন ‘দেবদাস’। ২০১৩ সালে শাকিব খান-অপু বিশ্বাস-মৌসুমীকে নিয়ে আবারও দেবদাস নির্মাণ করেন তিনি।

১৯৮৬ সালে ‘শুভদা’ ও ১৯৯৭ সালে ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। এ ছাড়া ২০০৪ সালে পেয়েছেন একুশে পদক।

Check Also

gazi mazharul anwar

ট্রিবিউট টু গাজী মাজহারুল আনোয়ার

মিডিয়া খবর :- গাজী মাজহারুল আনোয়ার, চলচ্চিত্র পরিচালক, গীতিকার, সুরকার, কাহিনীকার, চিত্রনাট্যকার, সংলাপ রচয়িতা, প্রযোজক …

nirob, labonya

বিয়ে করছেন নীরব-লাবণ্য

মিডিয়া খবর:- আগামী ২৮ অক্টোবর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে যাচ্ছেন শ্রোতাপ্রিয় আরজে-টিভি উপস্থাপক নীরব এবং …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *