Home » নিউজ » চলনবিলে ‘পলো বাওয়া’র ধুম

চলনবিলে ‘পলো বাওয়া’র ধুম

মিডিয়া খবর:-                                   -: আবদুল মান্নান পলাশ:-  

polo-3তলাবিহীন কলসির আদলে বাঁশ ও বেতের তৈরি শৈল্পিক কারুকাজসমৃদ্ধ যে জিনিসটি দিয়ে মাছ ধরা হয় চলনবিলের আঞ্চলিক ভাষায় তার নাম ‘পলো’। এই অঞ্চলে পলো দিয়ে মাছ polo-6ধরাকে বলা হয় ‘পলো বাওয়া’। শুষ্ক মৌসুম সমাগত। ফলে চলনবিলের পানি ক্রমেই কমে যাচ্ছে। যে কারণে চলনবিলে এখন চলছে পলো বাওয়ার ধুম! তবে এবার পলো দিয়ে মাছ শিকার করতে এসে অনেকেই মাছখেকো সোঁতিওয়ালা প্রভাবশালীদের তোপের মুখে পড়ছে। তাদের হামলায় গত বুধবার ১০ জন পলো দিয়ে মাছ ধরতে এসে আহত হয়েছেন।

হেমন্তে রোদমাখা শীতের সময় বিলের পানি কমে গেলে দলে দলে পলো বাওয়া মানুষ মাছ ধরতে বিলে নামেন। কালের বিবর্তনে পলো দিয়ে মাছ ধরার এই রেওয়াজ এখন অনেকটা কমে গেলেও অনেককেই এ সময় ঘটা করে মাছ ধরতে দেখা যায়। তাড়াশ উপজেলার পুংরুহালি-মুন্ডুমালা  গ্রামের বৃদ্ধ আব্দুর রহমান (৮০) আক্ষেপ করে বলেন, ‘বিলে সেই মাছও আগের মতো নাই, সেই পলো বাওয়াও নাই।’ চাটমোহর উপজেলার ডেফলচড়া গ্রামের রথীন্দ্রনাথ দাস বলেন, ‘এখন সব মাছই সোঁতি দিয়ে মারে লেয় প্রভাবশালীরা। তাই পলো বাওয়া হলিও মাছ পাওয়া যায় না।’

polo-4নাট্যজন আসাদুজ্জামান দুলাল বলেন, ‘আগে প্রত্যেক গৃহস্থের বাড়িতেই দু-একটি পলো থাকতো । পলো মাছ ধরার কাজ ছাড়াও হাঁস-মুরগি ধরে রাখার কাজেও ব্যবহার হতো। শুকনো মৌসুমে বিশেষ করে পৌষ মাস থেকে শুরু করে চৈত্র মাস পর্যন্ত পলো দিয়ে মাছ ধরার মহড়া চলত।’ চলনবিলের খলিশাগাড়ীর বিল, জিয়েলগাড়ীর বিল, ডিকসির বিল, শাপলার বিল, বিল কুড়ালিয়া, বড়াল, চিকনাই, গুমানী, করতোয়াসহ বিলের ১৬টি নদ-নদীতে খাল ও পুকুরসহ উন্মুক্ত জলাশয়ে কয়েকদিন আগে থেকেই দিন তারিখ ঠিক করে আশপাশের প্রত্যেক গ্রামের জনসাধারণকে মাইকিং করে জানিয়ে দেয়া হতো। নির্দিষ্ট দিন বেলা বাড়ার সাথে সাথে বিভিন্ন গ্রাম থেকে সৌখিন মৎস শিকারীরা নির্দিষ্ট জায়গায় এসে জড়ো হতেন।

জলাশয়ের এক প্রান্ত থেকে সকলে একসঙ্গে লাইন ধরে লুঙ্গি আটঘাট করে বেঁধে বা ‘কাছা’ দিয়ে ঝপ্ ঝপাঝপ্ শব্দে পলো দিয়ে মাছ ধরা শুরু কpolo-4রতেন। সারিবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতেন সামনের দিকে। অনেকেরই মাথায় থাকতো গামছা বাঁধা। পলো দিয়ে পানিতে মাছ ধরতে ধরতে হৈ হুল্লোড় করে সামনের দিকে এগিয়ে যেত সবাই- এ যেন এক নিজস্ব চিরচেনা গ্রামবাংলার অপরূপ সৌন্দর্যময় দৃশ্য। মাছ পলোর মধ্যে পড়লেই নড়ত। সেই শব্দে বোঝা যেত শিকার এবার হাতের মুঠোয়। তখন পলোটিকে কাদা মাটির সঙ্গে ভালোভাবে চাপ দিয়ে ধরে রাখা হতো যাতে নিচে ফাঁকা না থাকে। এরপর পলোর ওপরের খোলা মুখ দিয়ে হাত ঢুকিয়ে মনের আনন্দে ধরে আনা হতো আটকে পড়া মাছ।

পুরনো মাছ শিকারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পলোয় সাধারণত দেশি মাছই বেশি ধরা পড়তো। এদের মধ্যে রুই, কাতল, মৃগেল, চিতল, আইড়, বাঘাইড়, কালিবাউস, বোয়াল, শোল, চিতল, টাকি ও গজার উল্লেখযোগ্য। শিকার করা মাছ মালার মতো কাঁধে ঝুলিয়ে খুশিতে বাড়ি ফিরতেন পলো বাওয়া মানুষেpolo-5রা। এখন অবশ্য জলাশয়ে আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না এবং আগের অনেক প্রজাতির মাছ বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায়। বর্তমানে যেটুকু অবশিষ্ট আছে এর বেশির ভাগের অস্তিত্ব হুমকির মুখে। এভাবে চলতে থাকলে সে দিন বেশি দূরে নয় যখন বিলে পলো দিয়ে মাছ ধরা শুধু স্মৃতি হয়ে রবে। অথবা আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম হয়তো চিনবেই না পলো দিয়ে কীভাবে মাছ ধরতে হয়।

গুরুদাসপুর উপজেলা সদরের প্রবীণ শিক্ষক, সাংবাদিক আতাহার আলি (৭০) স্মৃতি হাতরে বললেন, ‘ঝপ্ ঝপাঝপ্ পলো বাও/ মজার মজার মাছ খাও’- সদলবলে পলো দিয়ে মাছ ধরার অভিযানে নামার আগে সবাই এটা বলতো। এটি আসলে স্লোগান। এই স্লোগান আর শোনা যায় না। নতুন প্রজন্মের জন্য এসব ঐতিহ্য ধরে রাখার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।’ 

polo-1

(কৃতজ্ঞতা প্রকাশ – risingbd.com)

Check Also

emi

এশিয়া মডেল ফেস্টে বাংলাদেশের ইমি

মিডিয়া খবর :- বাংলাদেশের মডেল ইমি এ বছর ‘এশিয়ান মডেল অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন। রবিবার দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলের …

sheikh hasina

স্কুলে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রীর আহবান

মিডিয়া খবর :- দেশের সব স্কুলে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানালেন প্রধানমন্ত্রী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *