Home » নিবন্ধ » খাইয়া ছাইড়া দে
zunayed

খাইয়া ছাইড়া দে

মিডিয়া খবর:-

শিরোনামটি ধ্বংসের তরীতে পা দেওয়া এ প্রজন্মের উক্তি। এ জাতির উত্তরসূরী তথা আগামীর এমন এক প্রজন্মের কথা বলছি, যাদের সবকিছুতে পচন ধরতে শুরু করেছে। ভাবছিলাম বিষয়টা নিয়ে গল্প লিখব। কিন্তু জীবন্ত গল্প দিয়ে গল্প লেখার সাধ্য কোন জাত লেখকেরও থাকে না; আমি তো লেখকের সংজ্ঞাতেই পড়ি না। গল্প লিখতে হলে সেখানে লেখকের ভাবনার মিশ্রন, আবগের প্রকাশ, কল্পনার জাল বুঁনতে হয়। কিন্তু একটি মেয়েকে কেন্দ্র করে জুনায়েদ-নুরুল্লাহর সৃষ্ট গল্পে কোন লেখকের কিছু সংযোজন কিংবা বিয়োজন করার নাই; একেবারেই নাই ।

গত কয়েকদিন পূর্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এবং ভিডিও সাইট ইউটিউবে একটি ভিডিও নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত আলোচনায় যতটুকু বুঝতে পারছি (ভিডিওটি আমি দেখিনি) তাতে দুই অন্তরঙ্গ বন্ধু জুনায়েদ এবং নুরুল্লাহর মধ্যে এক মেয়ের প্রেমকে কেন্দ্র করে মারামারি লেগেছে। এবং তৃতীয় কোন বন্ধু সেটি ক্যামেরায় ধারণ করে ভার্চুয়ালে ছড়িয়েছে। রাজধানীর একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের দু’ই ছাত্র এবং তাদের একজনের প্রেমিকার প্রতি কটূক্তি থেকেই এ ঘটনার অবতারণা ।

সম্পূর্ণ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত নয় মাত্র দু’টো বিষয় নিয়ে আমি সংক্ষিপ্ত আলোচনা করব ।

  • খাইয়া ছাইড়া দে ।
  • আমি জানি, ওর আরও অনেক লাভার আছে ।

প্রথম কথাটি, ( খাইয়া ছাইড়া দে) শুনে আমি একটুও অবাক হইনি ! কেননা প্রকাশ করি কিংবা না করি, এটা আমাদের জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিণত হতে যাচ্ছে। শুধু যে পুরুষের ক্ষেত্রে তাই নই বরং এক্ষেত্রে পুরুষের সাথে প্রতিযোগিতা করে সামনে বাড়ছে মেয়েরাও। অনেকেই বলছেন, যেহেতু ওরা ইংরেজী মিডিয়ামের ছাত্রছাত্রী তাই ওদের উগ্রতাও বেশি। তাদের এমন ভাবনার সাথে আমি আংশিক একমত হলেও বহুলাংশে জোরাল দ্বিমত পোষণ করি। কেননা, খাওয়া-ছাড়ার এমন মানসিকতা আজ সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়েছে। ভালোবাসার পবিত্রতা দখল করে নিয়েছে রক্তের অনুরণন শান্ত করণের উপায় হিসেবে। শহরের পার্ক, রেষ্টুরেন্ট, আবাসিক হোটেলগুলোতে এমন কোন নোংরামী নাই যা হয়না । তবে ভ্রষ্ট প্রজন্মের মুখ থেকে যদি শুনতে হয় ‘খাইয়া ছাইড়া দে’ তবে আপনারা তা শুনে অবাক হতে পারেন কিন্তু আমার মত অনেকেই আর অবাক হননা। কেননা যখন প্রতিরোধ করা উচিত ছিল তখন অভিভাবক, সমাজ এবং রাষ্ট্র তা না করে ছেলে-মেয়েকে আরও স্বাধীনতা দিয়েছে, আরও অন্তরঙ্গ হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এখন যে খেসারত দিতে হচ্ছে তা পূর্ব কর্মের মাশুল মাত্র !  আশাহত হতে হবেনা, আমাদের সন্তানদের থেকেও, ‘খাইয়া ছাইড়া দে’ জাতীয় উক্তি খুব শীঘ্র বের হবে। কেননা মানুষ যা মনে ধারণ করে তার প্রকাশ হবেই; এটা লুকিয়ে রাখতে চাইলেই তা সম্ভব হয়না।

দ্বিতীয় কথাটি, ‘ওর (মেয়েটির) এমন আরও অনেকে আছে’-জুনায়েদ নুরুল্লাহকে শুনিয়ে বলেছে।  ‘ক’ (মেয়েটির ছদ্মনাম) এর আরও বহুজনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক আছে জেনেও জুনায়েদ তাকে ভালোবাসে-এটা নুরুল্লাহকে সে মারতে মারতে জানিয়ে দিয়েছে। দোষটা যে কাকে দেব তা ভেবে পাচ্ছি না। কয়টা প্রেম করলে যে এ প্রজন্মের প্রেমের পূর্ণতা আসে তার হিসাব বোধহয় বিশেষজ্ঞের গবেষণা ভান্ডারেও নাই। প্রজন্ম যেন জানতে চাচ্ছে, ডজনাধিক প্রেম করতে দোষ কি ? শুধু একটু ফোনে কথা বলা, মাঝে মাঝে লং ড্রাইভে যাওয়া, আর সুযোগ পেলে হোটেল-মোটেলের কুঠুরীতে দু’দন্ড ব্যয়-এতে আর এমন ক্ষতি কি ! বরং উপকারই তো বটে ! সময়টাও ভালো কাটে আর কিছু উপহারও পাওয়া যায়, যৌবনের চাহিদা মিটে যায় অনায়াসে !

এখন আমাদের সচেতন হতে হবে, আমাদের সন্তানদের নিয়ে । কিন্তু কিভাবে নিশ্চয়তা দেই যে, তারা কোন জুনায়েদ-নুরুল্লাহ’র খপ্পরে পড়েনি কিংবা আরও ডজন ডজন জুনায়েদ নুরুল্লাহকে ঘোরাচ্ছে না ?

আজ এককভাবে জুনায়েদ-নুরুল্লাহ কিংবা সেই ‘ক’ মেয়েটিকে দোষারোপ করতে পারিনা। দোষ আমাদের সবার। ইন্টারনেটের গতি বৃদ্ধির সাথে সাথে আমরা তার অপব্যবহার রোধ করতে পারিনি, সন্তানকে দিতে পারিনি পারিবারিক, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা। সন্তান কার সাথে বন্ধুত্ব করছে, কোথায় যায়, কি করে তার কোন খোঁজখবর বোধহয় আমাদের কাছে কোনদিনই ছিলনা । আজ আমাদের সমাজের মাত্র দু’জন জুনায়েদ-নুরুল্লাহ’র মুখোশ উম্মোচিত হয়েছে-কিন্তু বিশ্বাস রাখুন, যেভাবে চলছে তাতে প্রতি ঘরে ঘরে এমন জুনায়েদ, নুরুল্লাহ এবং ‘ক’-দের বিস্ফোরণ ঘটবে। এখনো বোধহয় সাবাধান হওয়ার কিছুটা সময় অবশিষ্ট আছে। সাবধান হোন। সন্তানদের ব্যাপারে আরও যত্নশীল হয়ে তাদের খোঁজখবর রাখুন। প্রজন্মকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়া আদৌ উচিত হচ্ছে না। এটা যে যত দ্রুত বুঝবো মঙ্গল তত দ্রুত নিকটবর্তী হবে।

রাজু আহমেদ । কলামিষ্ট । facebook.com/rajucoluimnist/

Check Also

উজ্জ্বলতম গৌরবময় ইতিহাসের পাতায় গরুর গাড়ি

মিডিয়া খবরঃ-    – : সাজেদুর রহমান :-  ইট-পাথরের এই যান্ত্রিক নগরের মন যখন ক্লান্ত হয়ে …

যশোর মুক্ত দিবস

মিডিয়া খবরঃ-         সাজেদুর রহমানঃ- ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের এই দিনেই যশোর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *