Home » লাইফ স্টাইল » কেউ আমার রিস্কায় উঠতে চায় না
rikshawala

কেউ আমার রিস্কায় উঠতে চায় না

মিডিয়া খবরঃ-     : সাজেদুর রহমান :  

মধ্যদুপুর গাজীপুর চৌরাস্তার মোড়। প্রখর রৌদ্রে থার্মোমিটারে তাপমাত্রা ৩৭ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এই প্রখর রৌদ্রে এমন কি বৃষ্টিতে ভিজে দীর্ঘ ৩৫-৪০ বছর ধরে রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন রাজশাহীর বৃদ্ধ শফিকুর রহমান। বয়সের ভারে নূইয়ে পড়েছে,  তবু ৭৩ বছর বয়সেও রিক্সার প্যাডেল চেপে চলেছেন তিনি।

রোদে পোড়া কালচে দেহ, চোখ মুখে ক্লান্তির ছোঁয়া, শক্তিও লোপ পেতে শুরু করেছে। হাত পায়ের শিরা-উপশিরা ফুলে ফেপে ভেসে উঠেছে। বয়সে কাবু হওয়া দেহের চামড়ায় ভাজ ধরেছে। তবু জীবন সংগ্রামে হার না মানা সৈনিক হয়ে এ বৃদ্ধ বয়সেও রিক্সা চালিয়ে জয় করে চলেছেন দারিদ্রতাকে।

বটবৃক্ষের মত ছায়াতলে আগলে রেখেছেন সংসার। অন্য বাবাদের মত সন্তানের সব চাহিদাগুলো পূরণ না করতে পারলেও স্বপ্ন দেখেন মেয়েকে ডাক্তার বানাবার। ছেলেকে বানাবে ইঞ্জিনিয়ার। বৃদ্ধ শফিকুর রহমান স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে দিনের পর দিন এ বৃদ্ধ বয়সেও রিক্সা চালাছেন।

শফিকুর রহমান জানালেন, একমাত্র মেয়ে আগামীতে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা দেবে। বড় ছেলের সামনে এইচ.এস.সি পরীক্ষা। তাই সন্তানদের পড়াশুনার জন্য দরকার বাড়তি টাকা। আর এই টাকার জোগাড় করতে নিজ শহর রাজশাহী ছেড়ে বেশি টাকার আশায় গত দু-সপ্তাহ এসেছেন গাজীপুর। রাত্রিযাপন করেন যাত্রি ছাওনিতে।

গাজীপুর চৌরাস্তা ভাস্কর্যের ছবি তুলতে গিয়ে কথা হয় এই বৃদ্ধ রিক্সা চালক শফিকুর রহমানের সাথে। বলতে শুরু করেন দুঃখের কথা গুলো। শফিকুর রহমান বলেন সকালে (গত বৃহস্পতিবার সকাল) শহরের চৌরাস্তা মোড় থেকে এক ছেলে রিক্সায় ওঠে গন্তব্য জেলখানা। ভাড়া ঠিক হয় ১৪০টাকা । শহরের রাস্তা না চেনা বৃদ্ধ শফিকুরের রিক্সায় চেপে বসা ছেলেটি প্রধান সড়ক ছেড়ে নিয়ে যান এক গলিতে। ভয় দেখিয়ে কেড়ে নেয় কাছে থাকা দিনের আয় মাত্র ১৬০টাকা। যা থেকে রিক্সা মালিকের ৫০ টাকা, দুপুরের খাবার টাকা দেবার কথা ছিল। সহজে টাকা না দেওয়ায় বৃদ্ধ শফিকুরের ভাগ্যে জুটেছে হাতে-পিঠে-পায়ে লাঠির আঘাত। যখন কথা হচ্ছে তখনও ফিনকি দিয়ে রক্তের ফোঁটা বের হয়ে আসছে । ফুলে উঠেছে পা-পিঠ। তার জীবনের অসাহায়ত্বের কথাগুলো অনর্গল বলতে থাকেন। “আব্বা আমার ছবি তুলবেন, কেউ আমার রিক্সায় উঠতে চায় না। আমার মেয়েকে ডাক্তার বানাতে পারবো তো! আব্বা আমি দুপরে যে কী খাবো তার কোন ঠিক নেই। মালিকের টাকা দেব ক্যামনে। ”

আবেগপূর্ণ কথাগুলো বলছিলেন চোখের জলে ভাসা মুখে। তবু আশায় বুক বাঁধেন বৃদ্ধ শফিকুর, মেয়ে ডাক্তার হবে।

এ শহরে নতুন রিক্সা চালাচ্ছেন তাই যে যা ভাড়া দেয় তাই নেন। তবু প্রতিদিন শহরে রিক্সা চালিয়ে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা ইনকাম করেন। রিক্সা ভাড়া খাবার খরচ দিয়ে যা থাকে জমান সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য।

বৃদ্ধ রিক্সাচালক শফিকুরের সাথে কথা বলে যখন ফিরছি তখন ঘড়িতে বলছে বিকাল ৩টা। আমার বাস চলছে, তখনও রৌদ্রে দাঁড়িয়ে আছেন শফিকুর রহমান যাত্রীর অপেক্ষায় । দু’বেলা ঠিকমত খেতে না পাওয়া এমন বৃদ্ধ শফিকুরের স্বপ্ন একদিন যেন সত্যি হয়।

Check Also

duck

হাঁসপালনে স্বাবলম্বী হওয়া যায়

মিডিয়া খবর :- হাঁস পালন করে বাড়তি আয়ের ব্যবস্থা করে নেয়া যায়। নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, …

morog polao

মোরগ পোলাও ঈদের খাবার মেন্যুতে

মিডিয়া খবর :- ঈদে খাবারের মেন্যুতে থাকা চাই বিশেষ কিছু। এবারের ঈদে খাবার মেন্যুতে রাখতে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *