Home » নিবন্ধ » ওদের কান্না ঠিক বুঝতে শিখেছি

ওদের কান্না ঠিক বুঝতে শিখেছি

মিডিয়া খবরঃ-       -: সাজেদুর রহমান :-

ছোটবেলায় বইয়ে পড়েছিলাম পাহাড়িদের জীবন, জীবিকা, সংস্কৃতি আর প্রকৃতির সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকার গল্প। সেই থেকে পাহাড়ে যাবার স্বপ্ন বাসা বেঁধেছে মনে। তবু আজও পাহাড়ের সাথে দেখা করাটা হয়ে উঠেনি। বন্ধুত্ব করতে চেয়েছিলাম পাহাড়ি মানুষের সাথে সেটাও হয়নি।

মাইলের পর মাইল পায়ে হেটে শহরে আসার কথা শুনে, কেন জানি মনে হয়েছে  তারা কি আদিম! আমার সবুজ ভূখণ্ড যখন উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে তখনও পাহাড়িদের সুখ মাটিতে চাপা পড়ছে। কেন জানি মনে হয় ঐ মানুষদের কাছে কি আমরা অন্য গ্রহের নাকি ওরা আমাদের কাছে ভিন্ন গ্রহের। মানুষের ভাষা আলাদা হতে পারে, আচার- ব্যবহার আলাদা হতে পারে। তবে মানুষের কান্না, আবেগ, আনন্দ কি আলাদা হয়? ওদের কান্না আমি  ঠিক বুঝতে শিখেছি।

বছরের পর বছর যখন এই মানুষদের কাঁদতে দেখি, তখন মনে হয় এরা আমাদের মানে বাংলাদেশের নাগরিক তো ?

আপনারা হয়তো আমার শেষ লাইন পড়ে অবাক হচ্ছেন। আসলে মনের গভীরের ক্ষোভ থেকে লেখা বাক্য। যদি আমরা একই দেশের নাগরিক হই তবে কেন এত বৈষম্য? কেন এতো নির্যাতন এই মানুষদের জীবনে নেমে আসে?   কিছুদিন আগেও আমরা দেখেছি  রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় রাজনৈতিক এক কর্মী হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিবাদে জড়িয়েছিল পাহাড়ি ও বাঙালিরা। পেট্রোলে জ্বালিয়ে দিয়েছিল পাহাড়ি গ্রাম, লুট করেছিল সম্পদ। তাছাড়া প্রায় শোনা যায় পাহাড়িদের সাথে আমাদের অতি আধুনিক মানুষের সংঘাত। পাহাড়িদের সম্পদ জোর করে কেড়ে নেয় এই আধুনিক Image result for পাহাড় ধ্বসমানুষের দল। তখন মনে হয় আমি ২০১৭ সালের ডিজিটাল বাংলাদেশে নয়, পড়ে আছি সেই প্রাচীন যুগে। যেখানে যার লাঠির জোর আছে সম্পদ তার।

হয়তো এতক্ষণে বুঝেছেন আমি কি কারণে এত কথা বলছি, ১৭ই  জুন  প্রথম আলোতে ছাপা হল “পাহাড়ের কান্না শুনতে কি পায় বাংলাদেশ? এই প্রশ্নটা আমরাও, পাহাড়ের কান্না শুনতে কি পায় বাংলাদেশ?

বাংলাদেশের জাতীয় একটি দৈনিকে অপর একটি  আর্টিকেলে বিশ্বজিৎ চৌধুরী লিখেছেন, পাহাড়ে বিপর্যয়, রাঙামাটি কী বার্তা দিল?

বিভেদ-কোন্দলে জর্জরিত মানুষ আজ যখন প্রকৃতির নির্মম আঘাতের মুখোমুখি হলো, তখন তারা উপলব্ধি করতে পারছে পাহাড়ি-বাঙালি, জাতি-ধর্ম-বর্ণের বিভাজন নয়, বড় বিপর্যয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয় মানুষেরই পরিচয়ে। মাটির নিচে চাপা পড়া বাঙালিকে যেমন উদ্ধার করছেন পাহাড়ি প্রতিবেশী, তেমনি পাহাড়ির লাশ উদ্ধার করতে শোকে বিহ্বল স্বজনকে সাহায্য করছেন বাঙালিরা।

১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তিচুক্তির পর পার্বত্যাঞ্চল নিয়ে সভা সেমিনার হয়েছে, গঠিত হয়েছে কমিটি, আলাদা মন্ত্রনালয়। কিন্তু শান্তি আসেনি পাহাড়ি বা পুনর্বাসিত বাঙালি কারও জীবনে।

গত  ১৩ জুন মঙ্গলবার রাঙামাটিসহ তিনটি পার্বত্য এলাকায় ভয়াবহ ভূমিধ্বসে দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যু আমাকে যেমন নাড়া দিয়েছে। তেমন হয়তো আমাদের দেশের নীতিনির্ধারকদের মনেও দাগ কেটেছে। তাই বলবো আমরা আর মানুষের কান্না দেখতে চাইনা, দেখতে চাইনা সন্তানকে বুকে নিয়ে মাইলের পর মাইল পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে বনে জঙ্গলে আশ্রয় নেয়া মায়ের আর্তনাদ।

জয় হোক মানবতার।

Check Also

যশোর মুক্ত দিবস

মিডিয়া খবরঃ-         সাজেদুর রহমানঃ- ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের এই দিনেই যশোর …

৫ই ডিসেম্বর ১৯৭১

 মিডিয়া খবরঃ-        সাজেদুর রহমানঃ- ৫ই ডিসেম্বর ১৯৭১।   সকাল ৯ টায় মিত্রবাহিনীর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *