Home » নিউজ » ঐতিহ্যবাহী হাজী বিরিয়ানি

ঐতিহ্যবাহী হাজী বিরিয়ানি

মিডিয়া খবর:- মোগল আমল থেকে ঐতিহ্যগতভাবেই পুরান ঢাকার মানুষের খাবার-দাবারে ছিল বেশ নবাবি সংস্কৃতি। তাই  এ এলাকার মানুষের হাজারো খাবার তালিকায় নিঃসন্দেহে বিরিয়ানি প্রথম সারিতেই রয়েছে। সেই ঐতিহ্য পুরান ঢাকাবাসী আজও ধরে রেখেছে। আর এই খাবার সরবরাহে বেশকিছু জনপ্রিয় খাবারের মধ্যে হাজির বিরিয়ানি অন্যতম।

যদি বলি হাজি মোহাম্মদ হোসেনের বিরিয়ানি তাহলে হয়তো অনেকেই চিনবে না। কারণ হাজি মোহাম্মদ হোসেনের বিরিয়ানি নামটার খুব একটা প্রচলন নেই, এর প্রচলিত নাম হচ্ছে হাজির বিরিয়ানি। ঢাকার বংশাল থানাধীন নাজিরা বাজারে ৭০ কাজী আলাউদ্দিন রোডে অবস্থিত হাজি বিরিয়ানি মূল রেস্টুরেন্ট। ১৯৩৯ সাল থেকে এই বিরিয়ানির যাত্রা শুরু এবং এখনো চলছে গৌরবের সঙ্গে, ঐতিহ্যের সঙ্গে। বংশপরম্পরায় এই বিজনেস দীর্ঘদিন ধরে রেখেছেন হাজি মো. হোসেনের পরিবারের লোকজন। মরহুম হাজি মোহাম্মদ হোসেনের মৃত্যুর পর এই ব্যবসার হাল ধরেন তারই পুত্র হাজি গোলাম হোসেন। ২০০৬ সালে হাজি গোলাম হোসেনের মৃত্যুর পর তার পুত্র হাজি মো. শাহেদ হোসেন এই ব্যবসার হাল ধরেন। এখন এই ব্যবসা দেখাশোনা করেন হাজি মোহাম্মদ বাপী যিনি মরহুম হাজি মো. হোসেনের নাতি হন সম্পর্কে।

 হাজির বিরিয়ানির বিশেষত্ব হল বিরিয়ানি রান্নায় ঘি বা বাটার অয়েলের পরিবর্তে শুধু সরিষার তেল ব্যবহার করা হয়। এই দোকান বা হোটেলের কোনো সাইনবোর্ড নেই কিন্তু এক নামেই সবাই চেনে। হাজির বিরিয়ানির বিশেষত্ব সম্পর্কে জানত চাইলে হাজি মো. বাপ্পী রসিকতা করে জানান, ‘এই বিরিয়ানির নামেই বরকত, আর বাকিটা স্বাদে। তিনি আরও বলেন, এই বিরিয়ানির স্বাদ কিংবা কোনো বিশেষত্ব না থাকলে ৭০-৮০ বছর ধরে কোনো খাবারই এভাবে সুনামের সঙ্গে চলতে পারে না। আমাদের বিশেষত্ব স্বাদে এবং মানে। হাজির বিরিয়ানি প্রস্তুত হয় শুধু খাসির মাংস দিয়ে, অন্য কোনো মাংস দিয়ে এই বিরিয়ানি প্রস্তুত করা হয় না। নাজিরাবাজার শাখায় গেলে আরেকটি বিশেষত্ব পাওয়া যাবে এই বিরিয়ানির, সেটি হলো পার্সেল দেওয়ার ক্ষেত্রে। কাঠালের পাতার বিশেষ এক ঠোঙায় করে এই বিরিয়ানি পার্সেল করা হয়। অন্য কোনো কাগজ কিংবা বক্সে পার্সেল দেওয়া হয় না। এ ব্যাপারে দোকানের এক কর্মচারী জানান, এটিও একটি ঐতিহ্য।

হাজির বিরিয়ানির নতুন সংযোজন হিসেবে এখন পাওয়া যাচ্ছে হাজির বোরহানি। এটিও এখন কেবল প্রধান শাখায় পাওয়া যায় তবে খুব শিগগিরই হয়তো অন্য দুটি শাখায় এটি পাওয়া যাবে।

ঢাকার বংশাল থানাধীন নাজিরাবাজারের ৭০ কাজী আলাউদ্দিন রোডে অবস্থিত হাজির বিরিয়ানির প্রধান শাখা। এর আর দুটি শাখা হচ্ছে মতিঝিল এবং বসুন্ধরা। মতিঝিল শাখার ঠিকানা হচ্ছে ৯৯ মতিঝিল (করিম চেম্বার) বিমান অফিসের পাশে। এটি খোলা থাকে দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। বসুন্ধরা শাখার ঠিকানা ক,১১/৬ এ বসুন্ধরা রোড বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। এটি খোলা থাকে দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।

সকাল ৭টা থেকে ৯টা এবং সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সাড়ে নয়টা এই দুই সময়ই বিরিয়ানি পাওয়া যাবে আলাউদ্দিন রোডের ঐতিহ্যবাহী হাজির বিরিয়ানির দোকানে। তবে যত চাহিদাই থাকুক সকালে ২ ডেকচি ও বিকালে ৩ ডেকচির বেশি বিক্রি করা হয় না। ইদানীং এখান থেকে রান্না করা খাবার নিয়ে মতিঝিল এবং গুলশানে দুটি ব্রাঞ্চ পরিচালিত হচ্ছে যা শুধু দুপুরেই পাওয়া যায়। আলাউদ্দিন রোডের মেইন দোকান থেকে বিরিয়ানি কিনে বাসায় নিতে চাইলে তা নিতে হবে ওদের বানানো ‘কাঁঠাল পাতায়’ পার্সেল প্যাকেটে করে। শাখাগুলোতে দুই ভাগে বিরিয়ানি সরবরাহ করা হয়। প্রথম ভাগের খাবার দুপুর বারোটার আগেই বড় হাঁড়িতে করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। প্রত্যেক শাখায়ই আনুমানিক দুই ডেগ করে বিরিয়ানি যায় প্রতি বেলায়। তবে বিভিন্ন ছুটির দিন ও উৎসবে আরও বেশি চাহিদা থাকে বলে জানান বারিধারা শাখার কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান। আবার সন্ধ্যার আগে আগে দ্বিতীয় দফায় আরও খাবার আনানো হয়। তিনি জানান, পুরো ঢাকাতেই হাজির বিরিয়ানির চাহিদা ব্যাপক। এর আরও দু-একটি শাখা বাড়ানো উচিত।

বড় পরিসরে হাজির বিরিয়ানি যে কোনো বড় অনুষ্ঠান কিংবা আয়োজনে অর্ডার সাপ্লাই করে থাকেন বলে জানান মালিক পক্ষের লোক হাজি বাপ্পী। রোজায় উচ্চপদস্থ স্থান থেকেও অর্ডার আসে। তাছাড়া বিভিন্ন নামিদামি ব্যক্তি তাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এখান থেকে বিরিয়ানির অর্ডার করে থাকেন এবং এখানে খেতেও আসেন। তিনি জানান, দেশের ঐতিহ্যের সঙ্গে আমরা ওতপ্রোতভাবে জড়িত, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা আমাদের গুণগত মান ঠিক রাখি, তাই নানা জায়গা থেকে অর্ডারও পাই।

দামদর প্রতি প্লেট বিরিয়ানির মূল্য ধরা হয়েছে ১৪০ টাকা এবং সব শাখায়ই এই দাম একই। নতুন সংযোজিত বোরহানির মূল্য ১২০ টাকা প্রতি লিটার। তাছাড়া আছে কোল্ডড্রিংক্স যা বাজারের খুচরা দামেই বিক্রি করা হয়।

কীভাবে যাবেন পুরান ঢাকার কাজী আলাউদ্দিন রোডে পা রেখে একটু সামনে এগোলেই দেখা মিলবে হাজির বিরিয়ানির দোকানের। ঢাকার যে কোনো এলাকা থেকে হাজির বিরিয়ানির প্রধান শাখা পুরান ঢাকায় যাওয়া যাবে। সদরঘাটগামী যে কোনো বাসে বংশাল কিংবা গুলিস্তান পর্যন্ত বাসে করে যেতে হবে। এলাকার সকলেই চেনে হাজির বিরিয়ানি, যে কাউকে জিজ্ঞেস করলে সহজেই পৌছে যাবেন কাঙ্খিত ঠিকানায়।

Check Also

সভাপতি সাইফুল, সাধারণ সম্পাদক ফরিদা

মিডিয়া খবর :-  জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আজ মঙ্গলবার দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্টিত হল। জাতীয় …

গ্রিনে জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া কমিউনিকেশন বিভাগ

মিডিয়া খবর :-  জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া কমিউনিকেশন বিভাগের পথ চলা শুরু হল বৃহস্পতিবার ২২ নভেম্বর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *