Home » প্রোফাইল » আবদুল আলীম :কণ্ঠে যার মাটি ও মানুষের গান
abdul-alim

আবদুল আলীম :কণ্ঠে যার মাটি ও মানুষের গান

ঢাকা:-

-: পাভেল রহমান :-

কণ্ঠে তাঁর মিশে আছে সোঁদা মাটির ঘ্রাণ। ফুল পাখি আর নদীর গান গাইতে গাইতে এদেশের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। বাংলা গানকে তুলে ধরেছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। সংগীতে সৃষ্টি করেছেন নিজস্ব গায়কী। কণ্ঠ জাদুতে মুগ্ধ করেছেন সাধারণ মানুষ থেকে বোদ্ধা সংগীতকারদের। বলছি আবদুল আলীমের কথা।

আজ ২৭ জুলাই প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী আবদুল আলীমের ৮৩তম জন্মদিন। ১৯৩১ সালের এই দিনে তিনি পৃথিবীতে এসেছিলেন। এই অমর শিল্পী ১৯৭৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেন। বর্ণিল কর্মজীবনে অসংখ্য গানের সৃষ্টি করেছেন তিনি। আবদুল আলীমের জন্মদিনে শ্রদ্ধা জানিয়ে সাজানো হয়েছে এ প্রতিবেদন।

আবদুল আলীমের জন্ম ভারতের মুর্শিদাবাদের তালিবপুর গ্রামে ১৯৩১ সালের ২৭ জুলাই । মাত্র ১৪ বছর বয়সে এই মেধাবী শিল্পীর দুটি গানের রেকর্ড প্রকাশ করে গ্রামোফোন কোম্পানি। দেশ বিভাগের সময় ঢাকায় চলে আসেন তরুণ আবদুল হালিম। ঢাকায় এসে কণ্ঠশিল্পী হিসেবে যোগ দেন পূর্ব পাকিস্তান রেডিওতে।

সঙ্গীতশিক্ষার জন্য আবদুল আলীম সংস্পর্শ পান মুমতাজ আলী খান এবং মোহাম্মদ হোসাইন খসরুর মতো উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতবিদদের। স্বতন্ত্র গায়কী আর অসাধারণ কণ্ঠের জন্য তিনি প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেন পল্লীকবি জসীম উদ্দীন, কানাই লাল শীল, , আবদুল লতিফ, খান সমশের আলীসহ অসংখ্য দেশবরেণ্য ব্যক্তির। সংগীত জীবনে তার দুই শতাধিক রেকর্ড প্রকাশিত হয়।abdul-alim-1

এ দেশের চলচ্চিত্রের প্রথম দিকের শতাধিক ছবিতে প্লে-ব্যাক করেছেন আবদুল আলীম । ১৯৫৬ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত ৫০টি ছবিতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন আবদুল আলীম। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মুখ ও মুখোশ, এদেশ তোমার আমার, জোয়ার এলো, সুতরাং, নদী ও নারী, কাগজের নৌকা, নবাব সিরাজউদ্দৌলা, সাত ভাই চম্পা, স্বর্ণকমল, গাঁয়ের বধূ, লালন ফকির, দস্যুরানী, উৎসর্গ, তীর ভাঙা ঢেউ। এসব ছবিতে শিল্পীর গাওয়া গান এখনও শ্রোতাদের মুখে মুখে ফেরে।

অনন্য দরদী কণ্ঠের অধিকারী আবদুল আলীম মানুষের ভালবাসা যেমন পেয়েছেন, তেমনি নানা স্বীকৃতি-সম্মাননা-পদক/পুরস্কারও পেয়েছেন। তিনি রাষ্ট্রীয় পুরস্কার একুশে পদক, পূর্বাণী চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদক সমিতি পুরস্কার এবং অসাধারণ পারফর্মেন্সের জন্য লাহোরে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান মিউজিক কনফারেন্সে ৫টি স্বর্ণপদক লাভ করেন।

তিনি ঢাকা মিউজিক কলেজের লোকগীতি বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। দেশের অনেক খ্যাতিমান লোকগীতি শিল্পী তাঁর ছাত্র। ১৯৭৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বাংলা লোকসঙ্গীত কুঞ্জের ‘কালো কোকিল’ আবদুল আলীম দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় ইন্তেকাল করেন।

আবদুল আলীমের গাওয়া জনপ্রিয় গানের মধ্যে অন্যতম হলো – দুয়ারে আইসাছে পালকি, হলুদিয়া পাখি, সর্বনাশা পদ্মা নদী, পদ্মার ঢেউরে, প্রেমের মরা জলে ডুবে না, উজান গাঙ্গের নাইয়া, আমারে সাজাইয়া দিও, মনে বড় আশা ছিল, বাবু সেলাম বারে বার, সব সখিরে পার করিতে, মনপবনের নাও আমায় লইয়া যাও প্রভৃতি।

তথ্য সূত্র : প্রতিমুহূর্ত ডটকম ও রাইজিংবিডি ডটকম

Check Also

gazi mazharul anwar

ট্রিবিউট টু গাজী মাজহারুল আনোয়ার

মিডিয়া খবর :- গাজী মাজহারুল আনোয়ার, চলচ্চিত্র পরিচালক, গীতিকার, সুরকার, কাহিনীকার, চিত্রনাট্যকার, সংলাপ রচয়িতা, প্রযোজক …

nirob, labonya

বিয়ে করছেন নীরব-লাবণ্য

মিডিয়া খবর:- আগামী ২৮ অক্টোবর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে যাচ্ছেন শ্রোতাপ্রিয় আরজে-টিভি উপস্থাপক নীরব এবং …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *